এতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র রুটে কনটেইনারবাহী জাহাজে পণ্য পরিবহনের ভাড়া প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্ভাব্য নতুন শুল্ক কার্যকরের আগে ব্ল্যাক ফ্রাইডে ও বড়দিনের বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আগাম আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সাংহাই শিপিং এক্সচেঞ্জ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই পর্যন্ত সাংহাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ৪০ ফুটের একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ পাঠানোর ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২১৯ ডলার। এপ্রিলের শেষ দিকের তুলনায় এটি প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি। একই সময় পূর্ব উপকূলে ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ১৩৪ ডলার, যা আগের তুলনায় ২ দশমিক ৩ গুণ বেশি।
সাধারণত গ্রীষ্মকাল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কনটেইনার পরিবহনের ব্যস্ত মৌসুম থাকে। তবে চলতি বছর মে মাস থেকেই প্রতিষ্ঠানগুলো মজুদ বাড়াতে আগাম পণ্য আমদানি শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বড় কারণ। গত ফেব্রুয়ারিতে পাল্টা শুল্কের পরিবর্তে ১০ শতাংশ বিকল্প শুল্ক আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ব্যবস্থা ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর, যার মেয়াদ শেষ হবে ২৪ জুলাই। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরকার ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিপিং বাজার বিশেষজ্ঞ তাকুমা মাতসুদা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির অনিশ্চয়তার ঝুঁকি কমাতেই ব্যবসায়ীরা আগাম পণ্য পাঠাচ্ছেন।’
এ প্রবণতার প্রভাবও দেখা গেছে আমদানি পরিসংখ্যানে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেসকার্টেস ডেটামাইনের তথ্যানুযায়ী, জুনে এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কনটেইনার আমদানি ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৭ লাখ ৭০ হাজার টিইইউতে পৌঁছেছে। এটি টানা দ্বিতীয় মাসের প্রবৃদ্ধি।
এর মধ্যে মোট চালানের অর্ধেকের বেশি গেছে চীন থেকে। দেশটি থেকে চালান ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম থেকে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি পণ্য পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন ও হ্যাকেট অ্যাসোসিয়েটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাইয়ে কনটেইনার আমদানি মাসিক হিসাবে রেকর্ড ২৪ লাখ ৭০ হাজার টিইইউতে পৌঁছতে পারে। তবে আগস্টে ফের আমদানির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।